হাদীস কী? হাদীস অমান্যকারীর পরিণাম কি?
হাদীস কী? হাদীস অমান্যকারীর পরিণাম কি?
আল হাদীস কী?
হাদীস (الحديث) আরবী শব্দ । এর শাব্দিক অর্থ- কথা,বাণী, সঙ্গবাদ,উপদেশ ইত্যাদি ।
পারিভাষিক অর্থে
الحديث هو اقوال النبى (ص) وافعاله وتقاريره-
মহানবী (সাঃ) এর কথা,কাজ ও মৌন সম্মতিই হাদীস ।
মুফতি আমীমুল ইহসান (র) একটু ব্যাপকভাবে বলেছেন । তিনি বলেন-
الحديت هو اعمّ من ان يكون قول الرسول (ص) والصحابيّ والتّبعى وفعله وتقريره –
সাধারণ অর্থে রাসূল (সাঃ) সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীদের উক্তি এবং রাসূল (সাঃ) এর কাজ ও মৌ সম্মতিকে হাদীস বলে ।
ড. মাহমুদ ত্বহান (র) বলেন, যে কথা, কাজ ও সমর্থনের সম্বন্ধ মহানবী এর দিকে করা হয়ে তাকে হাদীস বলে ।
মূলত হাদীস ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস ও মৌলিক দলীল । মানবজীবন পরিচালনার জন্যে কুরআনের পরেই হাদীসের স্থান । হাদীস হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা । হাদীসের জ্ঞান ব্যতীত পবিত্র কুরআন অনুধাবন করা এবং এর সঠিক তাৎপর্য বুঝা অসম্ভব । রাসূল (সাঃ) এর জীবনাচরণ হলো কুরআনের জীবন্ত ব্যাখ্যা ।
বস্তুত কুরআন বুঝার জন্যে হাদীস জানা একান্ত অপরিহার্য ।
রাসূল (সাঃ) নিজ থেকে কিছু বলেন না…
আর তিনি রাসূল (সাঃ) প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না; বরং ওহীর কথা বলেন যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয় । (৫৪-সূরা নাজমঃ৩-৪)
রাসূল (সাঃ) এর আদেশ-নিষেধ পালন করা..
রাসূল (সাঃ) তোমাদের জন্যে যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক । আর আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো । নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা । (৫৯-সূরা হাশরঃ৭)
রাসূলের আনুগত্য করা…
হে রাসূল (সাঃ) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো । যাতে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন । আর আল্লাহ মহাক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু । (৩-সূরা আলে ইমরানঃ৩১)
হে মু’মিনগণ তোমরা আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের আমলসমূহকে নষ্ট করে দিও না । (৩৩-সূরা আহযাবঃ২১)
হে মু’মিনগণ তোমরা আল্লাহ এবং রাসূলের অনুগত্য কর এবং তোমাদের দায়িত্বশীলদের আনুগত্য কর । ( ৪-সূরা নিসাঃ৫৯)
সর্বোত্তম আদর্শ….
নিশ্চয় তোমাদের জন্যে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর জীবনীতে রয়েছে উত্তম আদর্শ । এটা তাদের জন্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে । (৩৩-সূরা আহযাবঃ২১)
রাসূল (সাঃ) অনুসরণ না করার পরিণাম…
বলুন, তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওতাআলার ও রাসূল কারিম (সা:) এর আনুগত্য প্রকাশ কর । বস্তুত তারা যদি আনুগত্য প্রকাশ না করে, তাহলে জেনে রেখো আল্লাহ কাফেরদেরকে ভালোবাসেন না । (৩-সূরা ইমরানঃ৩২)
যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওতাআলা ও রাসূল কারিম (সা:) কে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি দুনিয়া ও আখেরাতে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর বা অসম্মান জনক শাস্তি ।(৩৩-সূরা আহযাবঃ৫৭)
সর্বক্ষেত্রে রাসূলকে মেনে নেওয়া…
কিন্তু না, তোমার প্রভুর কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে । অতঃপর মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংশয় সৃষ্টি হবে না বরং তা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নিবে । (৪-সূরা নিসাঃ ৬৫)
যে লোক রাসূলে কারিম (সা:) এর হুকুম মান্য করবে সে যেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলার হুকুম মান্য করল আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে তাদের জন্য রক্ষণা বেক্ষণাকারী করে পাঠাইনি । (৪-সূরা নিসাঃ ৮০)
_______________________________________
হাফেজ মোঃ মহিব্বুল্লাহ আল ফারুক
ইমাম ও খতিব ,
উত্তর আমবাগান বায়তুল মা’মুর জামে মাসজিদ (চট্রগ্রাম )
_______________________________________
Comments
Post a Comment