যেনা-ব্যভিচার কি? দর্শন নিয়ে আল্লাহর দেয়া নির্দেশাবলী কি?
১, যিনা ব্যভিচার কি?/দর্শন কি?
ইসলামের দৃষ্টিতে মানবিক অপরাধগুলোর মধ্যে যে সব শাস্তি কুরআনুল কারিমে নির্ধারিত রয়েছে তন্মধ্যে যেনা বা ব্যভিচারের শাস্তি সব চেয়ে কঠোর ও গুরুতর ।
যেনা বা ব্যভিচার একটি মহা অপরাধ যা অনেক গুলো অপরাধের সমষ্টি । ব্যভিচার বা যিনা হলো একজন পুরুষ ও একজন নারী অবৈধ পন্থায় যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া । ধর্মীয়, সামাজিক ও আদর্শিক সকল ক্ষেত্রেই এটি জঘন্য অপরাধ । বলার অপেক্ষা রাখেনা, তাই এই মহা অপরাধ থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্যেই এই ঘৃণ্য পাপের কঠিন শাস্তির বিধান দিয়েছে ইসলাম ।
২, যেনা-ব্যভিচার বা দর্শন নিয়ে আল্লাহর দেয়া নির্দেশাবলী কি?
আর তোমরা কখনো ব্যভিচারের নিকটে যেয়ো না । নিশ্চয় এটা অশ্লীল ও খারাপ কাজ এবং অসৎ পন্থা । (১৭-সূরা বনী ইসরাঈলঃ৩২)
লজ্জাহীনতার যত রকম পথ/ পন্থা আছে তোমরা এর কাছেও যেয়ো না, তা প্রকাশ্যেই হোক আর গোপনেই হোক । (৬-সূরা আল আনআমঃ ১৫১)
বাস্তবতাঃ লজ্জাহীনতার কাজ গুলো আমরা সবচেয়ে বেশী করি যেমনঃ সুদ, গোস, চুরি, যেনা-ব্যভিচার ইত্যাদি
৩, বর্তমানে বাংলাদেশে যেনা ব্যভিচার বা দর্শন এত বেড়েছে কেন ? কয়টি কারণে ?
১, আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা,
২, চুরি কর,
৩, ব্যভিচার করা,
৪, নিজেদের কন্য সন্তানদেরকে হত্যা করা বা সন্তানের উপর জুলুম করা,
৫, জেনে শুনে মিথ্যা অপবাদ দেয়া,
৬, কোনো ন্যায়সঙ্গত উত্তম কাজের ব্যাপারে রাসূলের অবাধ্য হওয়া,
عن عبدة بن الصامت(رض) قال قال رسول الله () وحوله عصابة من اصحابه بائعونى على ان لا تشركوا بالله شيئا ولاتسرقوا ولاتزنوا ولاتقتلوا اولادكم ولا تاتوا ببهتان تفترونه بين ايديكم وارجلكم ولاتعصوا فى معروف فمن وفى منكم فاجره على الله ومن اصاب من ذلك شيئا فعوقب فى الدنيا
দলিলঃ উবাদা ইবনে সামিত (রাদিআল্লাহু আনহু)হতে বর্ণিত হয়েছে । তিনি বললেন , একবার একদল সাহাবী রাসূলূ কারিম (সাঃ) কে ঘিরে বসেছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাদের সবাইকে বললেন, তোমরা আমার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করো এ মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো জিনিসকে অংশীদার করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না এবং তোমাদের নিজেদের কন্যা সন্তানকে হত্যা করবে না । কারো প্রতি জেনে-শুনে মিথ্যা অপবাদ দিবে না এবং কোনো ন্যায়সঙ্গত উত্তম কাজের ব্যাপারে আমার (রাসূলের) অবাধ্য হবে না। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ (এ সকল অঙ্গীকার) পূরণ করবে, তার পুরস্কার রয়েছে আল্লাহর কাছে । আর যে ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটিতে লিপ্ত হবে সে এর জন্য দুনিয়াতে শাস্তি ভোগ করবে । (বুখারী ১ম খন্ড অঃ ঈমান পৃঃ২০)
৪, বর্তমানে কেন মা-বোনরা দর্শনের শিকার হচ্ছে ? ৩টি কারণে
১, পোশাক এর কারণে
২, খারাপ দৃষ্টি
৩, সোশাল মিডিয়ার অপব্যবহার
দলিলঃ ২৪-সূরা নুরঃ৩০-৩১, ৩৩-সূরা আহযাবঃ৫৯)
যিনাকারীকে একশ বেত্রাঘাত মারাঃ
যেনা কারিণী (নারী) ও যেনাকারি (পুরুষ) তাদের প্রত্যেককে তোমরা ১০০শত বেত্রাঘাত করবে, আর আল্লাহ্ তায়ালার বিধান পালন করতে গিয়ে যেন তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার ও পরকালের প্রতি যদি তোমরা বিশ্বাস করে থাক, আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি অবশ্যই প্রত্যক্ষ করে । (২৪-সূরা আন নুরঃ ২)
Comments
Post a Comment