রিসালাত কি? রাসূলের কাজ রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দেয়া
রিসালাতের পরিচয় : রিসালাত () অর্থ পৌঁছানো, মহান আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি তার হুকুম-আহকাম ও হেদায়াত পৌঁছানোর জন্যে যে ব্যবস্থা করেন তাকে রিসালাত বলে ।
নবী-রাসূল কাকে বলে: যাদেরকে আল্লাহ মানুষের মধ্য হতে নির্বাচন করে মানুষের কাছে তার হুকুম-আহকাম হেদায়াত পৌছিয়ে দেয়ার জন্যে মনোনীত করেন তাদেরকে নবী-রাসূল বলে ।
নবী-রাসূল আগমন: পৃথিবীতে অসংখ্য নবী-রাসূল আগমন করেছেন। পবিত্র কুরআনে পঁচিশজন নবী-রাসূলের নাম উল্লেখ আছে । রিসালাত আল্লাহর বিরাট দান। যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে তা দান করেন। বলে বা চেয়ে কিংবা দাবি করে এ মর্যাদার অধিকারী হওয়া যায় না। প্রত্যেক নবীর দাওয়াত ছিল একই। তাদের কোনো একজনকে অস্বীকার করলে সকলকে অস্বীকার করা বোঝায় ।
নবীর প্রতি ঈমান আনার অর্থ এই যে, তাঁর পুরোপুরি আনুগত্য করা । আদম (আঃ) থেকে নিয়ে ঈসা (আঃ) পর্যন্ত যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূলকে আল্লাহ পৃথিবীতে
পাঠিয়েছেন । তাদের মধ্যে থেকে অনেকেই ছিলেন এলাকাভিত্তিক কিংবা জাতিভিত্তিক কিন্তু রাসূল (সাঃ) ছিলেন পুরো বিশ্ববাসীর জন্য নবী । নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) পর্যন্ত এসে নবুয়ত শেষ হয়ে গেছে । কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী আসবেন না । তাঁর নবুয়ত সমগ্র বিশ্বের জন্যে এবং যতদিন দুনিয়া থাকবে ততোদিনের জন্যে তাঁর নবুয়ত থাকবে । আল্লাহর কাছে তারাই নাজাত পাবে যারা তাঁর উপর ঈমান এনে তার আনুগত্যের অনুসারী হয়ী জীবন যাপন করবে । নবী করীম (সাঃ) এর উপর কুরআন নাযিল হওয়ার পর থেকে তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিল কিতাবের উপর আমল করা যাবে না ।
অহী রাসূলের তৈরিকৃত নয়:
তিনি (বিশ্বনবী জনাব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা:) যদি নিজের কথা গুলি আমার নামে চালাতেন তাহলে আমি অবশ্যই তাঁর (বিশ্বনবীর) ডান হাত ধরে ফেলতাম ।
তারপর নিশ্চয়ই তাঁর শাহরগ কেটে দিতাম । তখন তোমাদের কেউই আমাকে তা থেকে ফেরাতে পারতোনা । (৭০-সূরা মাআরিজঃ ৪৪-৪৭)
আমি আমার রাসূলকে কবিতা শিক্ষা দেইনি কেননা এটি তার জন্যে অশোভনীয়ও । এটাতো এক মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলার পক্ষ হতে উপদেশ ও প্রকাশ্য মহা গ্রন্থ আল কুরআন। (৩৬-সূরা ইয়াসীনঃ৬৯)
তিনি তার প্রবৃত্তি থেকে কথা বলতেন না । যা বলতেন তা শুধু অহী । (৫৩-সূরা নজমঃ৩-৪)
সকল নবী-রাসূলের একই দায়িত্ব ছিল
————————————————–
আমি প্রত্যেক জাতির কাছে নবী-রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তাদেরকে আহবান করেছিলেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করো এবং তাগুতের আনুগত্য পরিহার করো । এরপর তাদের মধ্য হতে কাউকে আল্লাহ হেদায়াত দান করলেন আর কারো ওপর গোমরাহী চেপে বসলো । সুতরাং তোমরা জমীনে পরিভ্রমণ করো আর দেখ মিথ্যাবাদীদের পরিণাম কি হয়েছিল । (১৬-সূরা নাহলঃ৩৬)
প্রত্যেক নবীর প্রতি মিথ্যারোপ করা হয়েছে
——————————————————–
كذّبت قبلهم قوم نوح وّعاد وّفرعون ذوالاوتاد – وثمود وقوم لوط وّاصحٰب الئيكت – اولٰئك الاحزاب –
ان كلّ الّاكذّب الرسل فحق عقاب –
তাদের পৃর্বেও মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ ও বহু শিবিরের অধিপতি ফিরাউনের সম্প্রদায়-সামুদ, লুতের সম্প্রদায় আইকার লোকেরা। এরাই ছিলো এক একটা বিশাল বাহিনী । এদের প্রত্যেকেই রাসূলগণের প্রতি মিথায়রোপ করেছে । ফলে তাদের ক্ষেত্রে আমার আযাব হয়েছে বাস্তব । (৩৮-সূরা ছোয়াদঃ ১২-১৪)
প্রত্যেক নবী-রাসূলের প্রতি অহী প্রেরণ করা হয়েছে
—————————————————————–
আপনার পূর্বে আমি ওহীসহ মানুষই পাঠিয়েছিলাম। তোমরা যদি না জানো তবে যারা স্বরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো । আমি তাদেরকে এমন দেহ বিনিময় করিনি যে, তারা খাবার খেতো না এবং তারা চিরস্থায়ীও ছিল না। (২১-সূরা আম্বিয়াঃ৭-৮)
ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ) প্রার্থনা করলেন হে আমাদের প্রতিপালক ! তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করো, যিনি তোমার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন,তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন । নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।(২-সূরা বাকারাঃ১২৯)
রাসূলের কাজ রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দেয়া
————————————————————-
হে রাসূল ! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি তা না করেন- তবে তো আপনি তাঁর পয়গামের কিছুই পোঁছালেন না । আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন । নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে সৎ পথে পরিচালিত করবেন না ।(৫-সূরা মায়িদাঃ৬৭)
রাসূল মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল
———————————————
তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছে, যে তোমাদের মধ্যে থেকেই একজন । তোমাদের ক্ষতি হওয়া তাঁর পক্ষে দুঃসহ কষ্টদায়ক, তোমাদের সার্বিক কল্যাণেরই তিনি কামনাকারী।ঈমানদার লোকদের জন্যে তিনি সহানুভূতি সম্পন্ন ও করুণাসিক্ত । (৯-সূরা তওবাঃ১২৮)
রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য
——————————-
هو الذى ارسل رسوله بالهدٰى ودين الحق ليظهره على الدين كله – وكفٰى باالله شهيدا-
তিনি আল্লাহ তাঁর রাসূলকে পথ-নির্দেশ (আল-কুরআন) ও সত্য দ্বীন (আল-ইসলাম) সহ পাঠিয়েছেন, যাতে একে অন্য সব মতবাদের উপর বিজয়ী করেন । সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট । (৪৮-সূরা ফাতাহঃ২৮)
প্রকৃত ঈমানদারদের পরিচয়
————————————-
عن انس (رض) قال قال رسول الله (ص..) لايؤمن احدكم حتّٰ اكون احبّ اليه من وّالده وولده والناس اجمعين –
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মু’মিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না আমি তাঁর নিকট তাঁর পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল মানুষ থেকে অধিক প্রিয় হই । (বুখারী,মুসলিম ও মিশকাত, হাদীসঃ৬)
Comments
Post a Comment