আত্মীয়-স্বজনের অধিকার কি ? আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহারের উপকারিতা কি ?

 ১, আত্মীয়-স্বজনের অধিকার কি ? 

আত্মার সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিকে আত্মীয় বলা হয় । আত্মীয়তা সাধারণত রক্ত কিংবা বংশ এবং বৈবাহিক সূত্রে সৃষ্ট সম্পর্ককে বলা হয় । অনেক সময় বন্ধুত্বকেও আত্মীয়তার পর্যায়ে গন্য করা হয় । বরং তা কখনো কখনো আরোও অধিকতর সম্পর্কে পরিণত হয়, যদি এ সম্পর্ক ইসলামী আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে । যেমন গড়ে উঠেছিল মদীনায় আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে একটি অতুলনীয় নিবিড় আত্মার সম্পর্ক । 

আল্লাহর একটি গুনবাচক নাম () রহমান । এ শব্দটি () রিহমুন ধাতু হতে উৎপত্তি । এর অর্থ আত্মীয়তা । সুতরাং যে আত্মীয়তার অধিকার আদায় করে সে যেন আল্লাহর অধিকার আদায় করে । 

 

২, আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করা ফরজ কেন ?  

হে মানব জাতি ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক আত্মা  থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তার থেকে তাঁর সঙ্গীনী (হাওয়া) কে সৃষ্টি করেছেন, এবং বংশ বৃদ্ধি করেছেন, তাদের দু’জন থেকে অসংখ্য অগণিত পুরুষ ও নারী । আর সেই মহান আল্লাহকে ভয় করো, যার দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের নিকট (স্বীয় হক) দাবি করে থাক এবং আত্মীয়তার (হক বিনষ্ট করা ) হতে ভয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সকলের খবরা-খবর রাখেন । (৪-সূরা নিসাঃ ১ ) 

তোমরা তোমাদের আত্মীয়-স্বজনের হক বা অধিকার সঠিকভাবে আদায় করো এবং অভাবী ও মুসাফিরদের হক বা অধিকার সঠিকভাবে আদায় করো । আর কিছুতেই অপব্যয় করো না । (১৭-সূরাঃ ইসরাঈল=২৬)

 

৩, আমরা আত্মীয় স্বজনের হক আদায় করবো কেন ? 

        , আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনার্থে

        , দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জনের জন্য 

        , জান্নাত পাওয়ার আসায় 

আর হে নবী ! আত্মীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরদেরও । এটা তাদের জন্যে উত্তম, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে । আর তারাই হলো সফলকাম । (৩০-সূরা রুমঃ ৩৮) 

 

৪, আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহারের উপকারিতা কি ?

          , রিযিক বেড়ে যায় 

          , হায়াত দীর্ঘায়িত হয় 

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তাঁর রিযিক বেড়ে যাক এবং তার হায়াত দীর্ঘায়িত হোক, সে যেন আত্মীয়ের সাথে  সদ্ব্যবহার করে । (মুসলিম ৭ম খন্ড, অঃ সদ্ব্যবহার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, পৃঃ নং-৯৫) মিশকাত হাদীস-৪৭০১)

 

৫, আত্মীয়তাঁর সম্পর্ক ছিন্নকরার পরিণাম

         , আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের  সাথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সম্পর্ক ছিন্ন করেন

         , আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জাহান্নামে যাবে

         , যেই সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী লোক আছে সেই সম্প্রদায়ের উপর  আল্লাহর রহমত নাযিল হয় না । 

যুবাইর ইবনে মুতয়ীম (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি নবী করীম (সাঃ) কে বলতে শুনছেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না । (বুখারী ৯ম খন্ড, অঃ আচার-ব্যবহার পৃঃ ৩৯৬) মিশকাত হাদীস-৪৭০৫) 

 

আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ (রাহিম) বা আত্মীয়তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার আরশের সাথে ঝুলানো আছে, সে বলে, যে আমাকে (আত্মীয়কে) মিলিয়ে রাখবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাকে মিলিয়ে রাখুন । আর যে আমাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহও তাকে ছিন্ন করুন । (মুসলিম ৭ম খন্ড, অঃ সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার পৃঃ ৯৪ (বুখারী, মিশকাত হাদীস-৪৭০৪)

Comments

Popular posts from this blog

যেনা-ব্যভিচার কি? দর্শন নিয়ে আল্লাহর দেয়া নির্দেশাবলী কি?

প্রতিবেশীর অধিকার কি ? কেন মানুষ প্রতিবেশীর অধিকার আদায় করবে ?

তাকওয়া কী ? কেন আমরা আল্লাহকে ভয় করবো ? এর কারণ কি ?